
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের প্রথম ২২ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে মোট ২.১৭ বিলিয়ন (২১৭ কোটি) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ ২৩.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশে এসেছিল ১.৭৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর ২০২৬ সালের একই সময়ে এই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।
তথ্যে আরও দেখা যায়, ২১ জুলাই একদিনেই প্রবাসীরা দেশে ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। মাসের শেষ সপ্তাহেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় জুলাই শেষে মোট রেমিট্যান্স আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা বাড়ার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।
রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় পরিশোধ, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সহায়তা করে। পাশাপাশি লাখো প্রবাসী পরিবারের জীবনমান উন্নয়নেও রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে এ ধরনের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


































